শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রওনা হয়েছেন চার নভোচারি

বিশেষ প্রতিনিধি
আপডেট মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০, ১০:১৬ অপরাহ্ণ

ইলন মাস্ক এর নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানি স্পেসএক্স-এর তৈরি ড্রাগন মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রওনা হয়েছেন চার নভোচারি।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক গরিব বাঙাল স্পেসএক্স এর ড্রাগন ক্যাপসুলের ভেতরের ছবি আর রাশিয়ার সয়ুজ ক্যাপসুল এর ভেতরের ছবি পাশাপাশি রেখে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। তার পোষ্টের মূল কথা- যুক্তরাষ্ট্রের নভোযান রাশিয়ান নভোযান থেকে অনেক আধুনিক! রাশিয়ার নভোযান মুড়ির টিনের মত দেখতে ভেতরে বালিশ বস্তা এসবের মধ্যে নভোচারীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়, মান্ধাতা আমলের টিপ সুইচ দিয়ে ওটা চালাতে হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নভোযানের ভেতরটা একেবারে ঝকঝকে তকতকে, নভোচারীদের চেয়ার বিমানের বিজনেস ক্লাসের সিটের মত; অত্যাধুনিক এলইডি টাচ প্যানেল, টাচ স্ক্রিনে সব কন্ট্রোল। প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে হাজার বছর পিছিয়ে আছে রাশিয়া।

ছেলেটা গরিব না হলে জানতো- ওই মান্ধাতার আমলের মুড়ির টিন মার্কা নভোযান দিয়ে রাশিয়ানরা মাত্র ৬ ঘন্টায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে পারে, যেখানে স্পেসএক্স-এর তৈরি ড্রাগন মহাকাশযানের ক্ষেত্রে গতবার লেগেছিল ১৯ ঘণ্টা আর এবার লাগবে ২৭ ঘণ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি দুই স্পেস শাটল ডিসকভারি এবং চ্যালেঞ্জার ধ্বংস হয়ে ১৪ জন নভোচারীর মৃত্যুর পর ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত রাশিয়ার ওই মুড়ির টিন মার্কা সয়ুজ নভোযানে চড়েই যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাতায়াত করতে হয়েছে।

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স নিঃসন্দেহে অসাধারণ কাজ করছে। মহাকাশ প্রযুক্তিকে তারা অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। প্রথম পর্যায়ের রকেট গুলোকে তারা যেভাবে পুনরায় ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে আনছে, এমনকি সমুদ্রের মাঝে ড্রোন শিপের মধ্যে ল্যান্ড করাচ্ছে, তা এককথায় অকল্পনীয় কাজ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা রাশিয়ার অরবিটাল মেকানিক্স এবং সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল ট্রাজেক্টরি নির্ধারণের জ্ঞানের ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারেনি। যে কারণে ওই লক্কর-ঝক্কর মার্কা মুড়ির টিনের নভোযান দিয়ে রাশিয়ানরা যে পথ ৬ ঘন্টায় অতিক্রম করে, এত অত্যাধুনিক ও ঝকঝকে মহাকাশযান দিয়ে সেই পথ অতিক্রম করতে স্পেসএক্স এর সময় লাগছে ১৯ থেকে ২৭ ঘন্টা। (আমি নিশ্চিত, স্পেসএক্সের তরুণ বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে এই সময়কে অনেক কমিয়ে আনতে পারবে)।

আমার বেশকিছু নেটিভ মার্কিন বন্ধু আছে। তাদের কাউকেই কোনদিন রাশিয়াকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে দেখিনি। বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই শত্রুকে সমীহ করে এবং কখনোই তাদেরকে আন্ডার এস্টিমেট করে না।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে- রাশিয়া কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে গোয়েন্দা বিমান পাঠায়নি, যেটা যুক্তরাষ্ট্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এটা বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে, এমনকি স্কাইল্যাব বিপর্যয়ের পর রাশিয়ার স্পেস স্টেশন হাইজ্যাক করে তাদের টেকনোলজি জানার পরিকল্পনাও করতে হয়েছে। তারা রাশিয়ার মিগ চুরি করেছে, তাদের হাইস্পিড ম্যানুভার টেকনোলজি জানতে। রাশিয়ার ডুবে যাওয়া নিউক্লিয়ার সাবমেরিন থেকে মিসাইল চুরি করেছে তাদের মিসাইল টেকনোলজি সম্পর্কে জানতে।

এমন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কেউ নিশ্চই নেহায়েত বিপদে না পড়লে অপরের তৈরি অস্ত্র বা যুদ্ধযান কিনে ব্যবহার করবেনা।

জানলে অবাক হবেন-
যুক্তরাষ্ট্রের নেভি স্পেশাল ফোর্স এবং অন্তত চারটি স্টেটের পুলিশ রাশিয়ার তৈরি একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি স্টেট রাশিয়ার তৈরি সাইগা-১২ অটোমেটিক শটগান ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী রাশিয়ার তৈরি হিন্দ (মিল মি-২৪) হেলিকপ্টার ব্যবহার করে।

রাশিয়ার তৈরি অন্তনোভ এএন-২২৫ বিমান (পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং বেশী ওজন তুলতে সক্ষম) ভাড়া করেছে।

রাশিয়াও হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কিছু জিনিস ব্যবহার করে। করাটাই তো স্বাভাবিক। এবং বিষয়গুলো তো স্বাভাবিক হবারই কথা। দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের কাছে এগুলো স্বাভাবিক বলেই মনে হয়।

অস্বাভাবিক লাগে নতুন আমেরিকান হওয়া গরিবদের। এরা হচ্ছে সেইসব গরুপূজারি হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত হওয়া সদ্য মুসলমানের মত, যারা পারলে চামড়াসহ গরুর মাংস খায়।


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD