শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

উজিরপুরের এক প্রতিবন্ধী তামান্নার কথা

বিশেষ প্রতিনিধি
আপডেট বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, তারাও মানুষ- তাদেরও সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। এরকমই একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী তামান্না জাহানের কথা না বললেই নয়। রংতুলিতে তার রয়েছে জাদুর ছোঁয়া, রয়েছে সূচিকর্মেরও বেশ অভিজ্ঞতা।

তিনি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের হতদরিদ্র পিতা ওবায়দুল কবির বিশ্বাস ও মাতা আফরোজা বেগমের একমাত্র সন্তান। তামান্না জাহান, বয়স তার ২০ এর কোঠায়। ছোট বেলাতেই ভয়াবহ অসুখে বাক ও শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলে। অসহায় পিতা-মাতা একমাত্র সন্তান নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে শেষ সম্বল ভিটেমাটিও হারিয়ে ফেলেছেন।

পিতা বর্তমানে সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে নিজেই সম্পূর্ণ অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। মা সন্তানের চিন্তায় বিভিন্ন অফিস ও মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কারণ তাদের মৃত্যুর পরে প্রতিবন্ধী সন্তান যেন সমাজের বোঝা না হয়।

তামান্না ছোটবেলা থেকেই চিত্রকর্মে পারদর্শী। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগ্রহণ না করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ বিভিন্ন ছবি যেন জীবন্তরূপ দান করেছে। শুধু তাই নয়, হাতের তুলির ছোঁয়ায় বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এঁকে চলছে।

উপকরণবিহীন মনোমুগ্ধকর ছবি নিয়ে বিভিন্ন লোককে দেখাতে পেরে যেন আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ছে। কিন্তু এ আনন্দ যেন ক্ষণিকের আনন্দ। তামান্না জানে না তার ভবিষ্যৎ কোথায়! সামান্য প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়েই চলছে তাদের সংসার।

তার মা আফরোজা বেগম যুগান্তরকে বলেন, গরিবের সংসারে যেন একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম না নেয়। সন্তানকে কোথাও এতটুকু মাথা গোঁজার ঠাঁই, চাকরি অথবা বিয়ে দিতে পারলেই যেন শান্তিতে মরতে পারতাম।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার অনেক কিছু করেছে শুনেছি, আমাদের পাশে নেই কোনো বিত্তবান ব্যক্তি, নেই কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, যার মাধ্যমে আমরা সাহায্য সহযোগিতা পেতে পারতাম। অসহায় পিতা-মাতা প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD