শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

পাপের ভারে ডুবছে ভারতীয় কংগ্রেস -মাহমুদুর রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি
আপডেট বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০৯ অপরাহ্ণ

গত সপ্তাহে ভারতের বিহারে রাজ্যে নির্বাচন হয়ে গেল। দুটি প্রধান মোর্চা নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। একদিকে বিজেপি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারের জনতা দল [ইউ] এবং আরও কয়েকটি খুচরো দলের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চা, এনডিএ। অন্যদিকে ছিল আঞ্চলিক দল আরজেডির নেতৃত্বাধীন মোর্চা। বিহারের প্রবীণ নেতা এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের হাতে গড়া দল আরজেডির বর্তমান নেতা তারই পুত্র, তরুন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, তেজস্বী যাদব। বিহারের নির্বাচনে কংগ্রেস এই মোর্চারই অংশ ছিল। নির্বাচনের পর সকল মিডিয়া জরিপ [Exit Poll] তেজস্বী যাদবের বিজয়ের পূর্বাভাষ দিলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিজেপিই জয় পেয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেজস্বীর অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের জন্য ইভিএম এর সম্ভাব্য কারচুপির সংগে কংগ্রেসকেও দায়ী করছেন। এই দায়ী করার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে।

একক দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা এবং বিজয়ী প্রার্থীর অনুপাতে বিহারের নির্বাচনে কংগ্রেসের অবস্থান সর্বনিম্ন। দলটি ৭০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছে মাত্র ১৯ আসনে। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে জয় ২৭ ভাগ। অপরদিকে আরজেডি ১৪৪ আসনের মধ্যে ৭৫ আসনে জয় পেয়ে একক আসন সংখ্যায় বিধানসভায় বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। শতকরা হিসেবে আরজেডি জিতেছে ৫২ ভাগ আসনে। মোর্চা গড়তে তেজস্বী যে সকল অতিরিক্ত আসনে কংগ্রেসকে ছাড় দিয়েছিলেন সেটাই তার জন্য কাল হয়েছে। এতগুলো আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দেয়া ঠিক হয়নি। কেবল বিহারেই নয়, ভারতের প্রায় সকল রাজ্যেই কংগ্রেসের দিন দিন এভাবেই ভরাডুবি হচ্ছে। বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ই গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং ইউপিতে উপনির্বাচন ছিল। সেসব জায়গায় বিজেপির কাছে রীতিমতো উড়ে গেছে কংগ্রেস। এমন করুণ পরিণতি ভারতের প্রাচীনতম দলটির প্রাপ্য ছিল বলেই আমি মনে করি। আসলে কর্মফল এড়ানো যায় না।

বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট শাসক পরিবার [শেখ মুজিব, কন্যা, দৌহিত্র, দৌহিত্রী, ইত্যাদি] এবং আওয়ামী লীগের দিল্লীর প্রাচীন ও আসল প্রভু কিন্তু এই ভারতীয় কংগ্রেস এবং বিশেষভাবে, দলটির কাণ্ডারি নেহরু পরিবার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদী দিল্লী দখল করলে অনেকটা বাধ্য হয়েই হাসিনার নতুন প্রভু হিসেবে মোদী-অমিত শাহ্‌ গংকে মেনে নিতে হয়েছে। তাই বলে মোটেও ভাববেন না, পুরনো প্রভুর সাথে সম্পর্কে কোন ছেদ পড়েছে। ১৯৬০ এর দশক থেকেই শেখ মুজিবের সাথে কংগ্রেস এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কেবল বাংলাদেশেই মোড়লিপানা নয়, ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশের সমাপ্তির পর সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের যে নীতি গ্রহণ করেছিল তার উদ্ভাবক প্রথম প্রধানমন্ত্রী জাওয়াহারলাল নেহরুসহ কংগ্রেস নেতারাই ছিলেন। নেহরুকন্যা ইন্দিরা পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত করার মাধ্যমে নেহরু ডকট্রিন বাস্তবায়ন করেছিলেন। কংগ্রেসের অপকর্মের তালিকা এতই দীর্ঘ যে সেগুলো নিয়ে বিশদভাবে লিখতে গেলে কয়েকখণ্ড বই হয়ে যাবে। আজকের সম্পাদকীয়তে আমি ভারতের অভ্যন্তরে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কংগ্রেসের অপকর্মের তালিকার নির্যাশটুকু কেবল পাঠকদের অবগতির জন্য দিয়ে রাখছি। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ মত তালিকা ধরে বড় পরিসরে লিখবার ইচ্ছা রইলো।

ভারতের অভ্যন্তরে কংগ্রেসের অপকর্মের নির্ঘন্টঃ

১। ১৯৪৮ সালঃ ভারতীয় সেনাবাহিনী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেহরুর নির্দেশক্রমে নিজামের শাসনাধীন স্বাধীন রাজ্য হায়দারাবাদ দখলের পর জোরপূর্বক ভারতভুক্ত করে।

২। ১৯৬১ সালঃ ভারত একসময়ের পর্তুগিজ উপনিবেশ গোয়া দখল করে।

৩। ১৯৭২ সালঃ নক্‌সাল আন্দোলন দমনের নামে পশ্চিম বঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা এবং কারাগারে আটক করা হয়। নক্‌সাল নেতা চারু মজুমদারকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে মারা হয়। পুলিশের নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে পড়েন আরও কয়েক হাজার তরুন।

৪। ১৯৭৫ সালঃ ‘দেশবেচুয়া’ নামে কুখ্যাত সিকিমের প্রধানমন্ত্রী লেন্দুপ দর্জির সহায়তায় ভারত স্বায়ত্তশাসিত সিকিম দখল করে। হিমালয়ের কোলের ক্ষুদ্র দেশটির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’কে ব্যবহার করেন।

৫। ১৯৭৫ সালঃ ইন্দিরা গান্ধী ভারতে জরুরী অবস্থা জারি করে প্রায় সকল বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিনা বিচারে কারাগারে আটক করেন। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়। চরম বামপন্থি দমনের নামে জরুরী অবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেক প্রতিবাদি তরুণকে হত্যা করা হয়। ইন্দিরার কনিষ্ঠ পুত্র সঞ্জয় দিল্লীতে বস্তিবাসী দরিদ্র মুসলমানদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালান।

৬। ১৯৮৪ সালঃ শিখ জনগোষ্ঠীর পবিত্রতম উপাসনালয়, অমৃতসরের ‘গোল্ডেন টেম্পল’ [আকাল তখ্‌ত] ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। আকাল তখতে আটকে পড়া বিদ্রোহী শিখ নেতা জার্নেল সিং ভিন্দ্রানওয়ালের ২০০ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় সেনা অভিযান চালালে উপাসনালয়ের ভিতরে ও বাইরে হাজার হাজার বেসামরিক শিখ নিহত হন। অভিযানে জার্নেল সিংও নিহত হন।

৭। ১৯৮৪ সালঃ ইন্দিরা গান্ধী শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হলে কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ভারতজুড়ে শিখ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয় তাতে প্রায় কুড়ি হাজার নিরাপরাধ ব্যক্তি নিহত হন। এক রাজধানী দিল্লীতেই কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা ৩,০০০ শিখ নারী, পুরুষ এবং শিশুকে হত্যা করে।

৮। ১৯৮৬ সালঃ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নির্দেশে বাবরি মসজিদ হিন্দু চরমপন্থিদের জন্য খুলে দেয়া হয়। তার পূর্ব পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে ঐতিহাসিক স্থাপনা, বাবরি মসজিদ বন্ধ রেখে হিন্দু চরমপন্থিদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়া হচ্ছিলো। রাজীব গান্ধী হিন্দু ভোটারদের সন্তুষ্ট করার জন্য চারশ বছরের প্রাচীন মসজিদের ভেতরে রামের পূজার আয়োজন করেন।

৯। ১৯৯২ সালঃ প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও এর কেন্দ্রীয় কংগ্রেস সরকারের মৌন সম্মতিক্রমে বিজেপির চরম মুসলিমবিদ্বেষী করসেবকরা আদভানি, মুরলি মনোহর জোশি, উমা ভারতী, কল্যাণ সিং ইত্যাদি নেতৃবৃন্দের উস্কানিতে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়। সেখানে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরাও এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয়।

১০। ১৯৯২ সালঃ বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর ভারতব্যাপী সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর হিন্দুরা পরিকল্পিত গণহত্যা চালালে হাজার হাজার মুসলমান নারী, পুরুষ এবং শিশু নিহত হয়। কংগ্রেস সরকার অসহায় মুসলমানদের রক্ষায় কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

এবার বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় কংগ্রেসের আধিপত্যবাদী কার্যকলাপের তালিকা প্রস্তুতের চেষ্টা করা যাকঃ

১। ১৯৪৭ সালঃ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নেহরুর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীর দখল করে নেয়। পণ্ডিত নেহরু এবং ব্রিটিশ উপনিবেশের শেষ ভাইসরয় ও নেহরুর বিশেষ পারিবারিক বন্ধু লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সাথে হাত মিলিয়ে কাশ্মীরের হিন্দু রাজা হরি সিং আন্তর্জাতিক আইন লংঘনপূর্বক কাশ্মীরকে ভারতের অধিনস্ত করেছিলেন। সেই থেকে কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপর যিয়নবাদী ইসরায়েলের বেআইনিভাবে দখলীকৃত প্যালেস্টাইনের জনগণের মত নির্মম নির্যাতন চলছে। সাত দশকেরও অধিক কাল ধরে কাশ্মীরের মুসলমান জনগোষ্ঠী আজাদির লড়াই চালাচ্ছে।

২। ১৯৪৯ সালঃ ভারত ভুটানকে এমন এক চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করে যার মাধ্যমে হিমালয়ের এই প্রাচীন দেশটি অদ্যাবধি ভারতের অঘোষিত উপনিবেশ রূপেই রয়ে গেছে। প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ ভুটানের জনগণ আর পায় নাই।

৩। ১৯৭১ সালঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত করার মাধ্যমে নেহরু-প্যাটেল ডকট্রিন বাস্তবায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

৪। ১৯৭৫ সালঃ ভারত ২১ এপ্রিল কোন পানিবন্টন চুক্তি ব্যতিরেকে একতরফাভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালু করলে ভাটির বাংলাদেশের প্রাণ এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হয়। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মরুকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে পতিত হয়েছে।

৫। ১৯৭৫ সালঃ ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে একদলীয় বাকশাল সরকারের পতন হলে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকি ভারতে পালিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করেন। তার সেই অসফল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে ভারত সরকার এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করেছিল। কিছুদিন আগে প্রয়াত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী কাদের সিদ্দিকির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

৬। ১৯৭৫ সালঃ বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন হলে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্রোহী চাকমাদের একাংশকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশে নাশকতামূলক কাজ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন পরিচালনার জন্য প্রেরণ করে। ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় চাকমাদের অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান থাকে। এই সময়কালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতিস্থাপনকারী হাজার হাজার দরিদ্র বাংলাদেশের নাগরিক এবং সেনাসদস্য ভারত নিয়ন্ত্রিত চাকমা বিদ্রোহীদের হাতে প্রাণ হারান।

৭। ১৯৮১ সালঃ চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল ভারতপন্থি অফিসার ২৯ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। ভারতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশেই গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তাদের এজেন্টদের দিয়ে সেই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

৮। ১৯৮৭ সালঃ শ্রীলঙ্কার সরকার এবং তামিল সন্ত্রাসী সংগঠন তামিল টাইগারের [এলটিটিই] মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার নামে লক্ষাধিক ভারতীয় সৈন্য ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করে। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী সংগঠন তামিল টাইগার ভারত সরকারের মদদেই সৃষ্টি হয়েছিলো। বিদ্রোহী হিন্দু তামিলদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিলো ভারতেরই তামিলনাড়ু রাজ্যে। বিদ্রোহী বাহিনীকে অস্ত্রসস্ত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিল সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’।

৯। ১৯৮৯ সালঃ নেপাল সরকারের সাথে রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিলে রাজীব গান্ধীর সরকার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র নেপালের বিরুদ্ধে অবরোধ প্রয়োগ করে। এই অন্যায় অবরোধের ফলে নেপালের জনগণ প্রচণ্ড দুঃখকষ্টের সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে নেপালের রাজা বীরেন্দ্র সপরিবারে নিহত হলে অনেকেই সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতকে দায়ী করেন।

১০। ২০০৭ সালঃ বাংলাদেশে জেনারেল মইনের তথাকথিত ১/১১’র অভ্যুত্থানে কংগ্রেস সরকার সহায়তা প্রদান করে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব দিল্লীর নিকট হস্তান্তরিত হয়।

১১। ২০১৪ সালঃ বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার ভোটা্রবিহীন, এক দলীয় নির্বাচনী তামাশাকে দিল্লীর কংগ্রেস সরকার সম্পূর্ণ সমর্থন দেয়। তারা ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য পশ্চিমা রাজধানীতে পররাষ্ট্র সচিবকে পাঠিয়ে শেখ হাসিনার জন্য বৈধতা আনার সকল প্রকার প্রচেষ্টা চালায়। শেখ হাসিনার যাবতীয় মানবাধিকার লংঘনকেও কংগ্রেস বরাবর সমর্থন জানিয়েছে।

১৯৪৭ সালের পর থেকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের যাবতীয় কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করে আমরা একটি সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভুত্ব কায়েম করাই সর্বদা দলটির লক্ষ্য ছিল। ইসলামোফোবিয়ার বিবেচনাতেও কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তফাৎ কেবল মাত্রা এবং প্রকাশ্য বক্তব্যের তীব্রতায়। অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাই কংগ্রেসের আগে ‘নরম হিন্দুত্ববাদী’ [Soft Hindutva] বিশেষণ দিয়ে থাকেন। বিগত তেয়াত্তর বছরে যেহেতু কংগ্রেসই অধিকাংশ সময় ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন ছিল তাই তাদের দ্বারাই দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ অধিক মাত্রায় উৎপীড়িত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেস এ দেশে জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে নির্মূলের চেষ্টা চালিয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনগণকে ইসলামী ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত করতেই দেশটির মিডিয়া এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের অভ্যন্তরে কংগ্রেসি এজেন্টদের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে। ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই ভারতে আজ কংগ্রেস নিজেই অস্তিত্বের সংকটে পতিত হয়েছে। সেদেশে গান্ধী পরিবার এখন ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। বিহারের জনগণ দলটিকে নতুন করে প্রত্যাখ্যান করে তাদের ললাট লিখন হয়তো আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুবই প্রচলিত একটি প্রবাদ বাক্য দিয়ে আজকের সম্পাদকীয় সমাপ্ত করছি। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। দক্ষিন এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের অভিশাপ কুড়িয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও আজ পাপের মাশুল দিচ্ছে।

লেখক: সম্পাদক, আমার দেশ


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD