শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

ভোটাডাকাতি আড়াল করতে গণপরিবহনে আগুন — মির্জা আলমগীর

বিশেষ প্রতিনিধি
আপডেট শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

জনগণের ভোটের অধিকার হরণের চিত্র আড়াল করতে গণপরিবহনে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক আগুন দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১২, ২০২০, সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি যে, জাতীয় সংসদ ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনের দিনে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করে বিভিন্ন গণপরিবহনে আগুন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক। বিএনপি মনে করে, ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ন্যক্কারজনক ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি, অনিয়ম, কারচুপি, সন্ত্রাস, বিরোধী দল তথা বিএনপির প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া ও যারা প্রবেশ করেছিল ভোট শুরু হওয়া মাত্রই মারধর করে বের করে দেয়া, আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভোটকেন্দ্র দখল ও অবরোধ করে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, জনগণের ভোটের অধিকার হরণের চিত্র আড়াল করার লক্ষ্যে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের দ্বারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। সরকার এসব দুষ্কর্মের মাধ্যমে পূর্বের মতোই বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করা ও এর দায়-দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চাপিয়ে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করে হয়রানি করতে চায়।

তিনি বলেন, বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে বিএনপি কখনোই জড়িত নয়। বিএনপি ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে নয়, বরং জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে রাজনীতি করে। বিএনপি জনগণের প্রতি সরকারের এই হীন ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সরকারকে এই হীন রাজনীতির পথ পরিহার করে স্বচ্ছ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসার আহবান জানাচ্ছে। আমরা আরও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আহূত প্রেসব্রিফিং শেষে কার্যালয় ত্যাগ করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুকসহ কমপক্ষে ১২ জন নেতাকর্মীসহ অন্যদের গ্রেফতার করে। এমনকি এখন পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চতুর্দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘেরাও করে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কার্যালয় থেকে যারাই বের হচ্ছেন কিংবা প্রবেশ করছেন সবাইকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং পার্শ^বর্তী এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমের স্বার্থে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

হঠাৎ করেই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ। কার্যালয়ের সামনে ও ভেতর থেকে অন্তত ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে তারা। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমানসহ দলটির ১০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যাললয়ের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। বিএনপি সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুনির হোসেন জানান, খোন্দকার মাশুকুর রহমানসহ বিএনপির ১০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাদেরকে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানার বাসায় দু দফা র‍্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন খায়রুল কবির খোকন।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের কাজে তিনি সকাল থেকে উত্তরায় অবস্থান করলেও কেন পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালালো তিনি বুঝতে পারছেন না। সরকারের দমন নিপীড়নের অংশ হিসেবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ ধরনের গ্রেফতার ও পুলিশি হানা হতে পারে বলেও জানান তিনি।


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD